বেইজিং সময় ৭ অক্টোবর, এনবিএ প্রিসিজনে পেলিকানস অতিথি হয়ে ১১৬-১১০ গোলে থান্ডারকে উল্টে হারায়, ২৪ পয়েন্টের বড় উল্টোদিক। চতুর্থ কোয়ার্টারে ৬ মিনিট ০৩ সেকেন্ড বাকি থাকতেও তাঁরা ১০৪ বনাম ১০৭-এ পিছিয়ে ছিল। এরপর ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে ম্যাকগাউয়েন্স, জুনিয়র পিয়েরসহ বিকল্পরা মিলে ১০-০-এর ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যায়। পেলিকানসের বিকল্প বেঞ্চ পুরো ম্যাচে ২৪ পয়েন্টের নেট জয় নেয়, এই নাটকীয় উল্টে দেওয়ার মূল শক্তি হয়ে ওঠে।

খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান

পেলিকানস (অতিথি): মাসারলিন ১৩ পয়েন্ট ৫ অ্যাসিস্ট; ফিয়ার্স ১২ পয়েন্ট; কুইন ১০ পয়েন্ট ৯ রিবাউন্ড ৩ স্টিল; ওয়াটফোর্ড ৭ পয়েন্ট ৬ রিবাউন্ড ২ স্টিল; ম্যাকগাউয়েন্স ৭ পয়েন্ট ২ স্টিল ১ ব্লক

থান্ডার (স্বাগতিক): স্ট্রেটস ১৫ পয়েন্ট ৫ রিবাউন্ড ৬ অ্যাসিস্ট; মালা ১২ পয়েন্ট ৯ রিবাউন্ড ৩ অ্যাসিস্ট ৩ ব্লক; ম্যাককেইন ১২ পয়েন্ট ৫ অ্যাসিস্ট; বার্নহাইজার ১২ পয়েন্ট ৭ রিবাউন্ড ৩ অ্যাসিস্ট; প্রিচার্ড ৭ পয়েন্ট ২ রিবাউন্ড ২ স্টিল
এ ম্যাচের ফোকাস
তৃতীয় কোয়ার্টারে ৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড বাকি থাকতে পেলিকানস ৬৩-৮৭-এ থান্ডারের চেয়ে ২৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। এরপর একটানা তাড়া করে শেষ পর্যন্ত ১১৬-১১০-এ ২৪ পয়েন্টের ঘাটতি ঘুরিয়ে দেয়। সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে শেষে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে।
চতুর্থ কোয়ার্টারে ৬ মিনিট ০৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে পেলিকানস ১০৪-১০৭-এ থান্ডারের চেয়ে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। এরপর ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ১০-০ আক্রমণ: ম্যাকগাউয়েন্স সমতায় আনার থ্রি করেন, মাতকোভিচ ও ওয়াটফোর্ড পরপর ডাঙ্ক করে এগিয়ে যান, জুনিয়র পিয়ের আরেকটি থ্রি করেন। স্কোর হয় ১১৪-১০৭, জয়ের সুর প্রায় বেঁধে যায়।
এ ম্যাচে পেলিকানসের বিকল্প খেলোয়াড়রা মিলে ৭৫ পয়েন্ট নেন, থান্ডারের বিকল্পরা মাত্র ৫১। বিকল্প বেঞ্চ ২৪ পয়েন্টের নেট জয়। মাসারলিন, ফিয়ার্স, কুইন, পুল ও ওয়াটফোর্ডসহ অনেকে পালা করে কাজ করেন, পেলিকানসের চূড়ান্ত ১১৬-১১০ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফায়ারপাওয়ার দেন।
উজ্জ্বল মুহূর্তের ফিরে দেখা
ম্যাচ শুরুতে ১১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বাকি থাকতে মিসি দুই ফ্রি থ্রোই করেন, পেলিকানস আগে ২ পয়েন্ট নেয়। এরপর ১১ মিনিট ২৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে জিয়ন জোনসের অ্যাসিস্টে দৌড়ে ডাঙ্ক করেন, পেলিকানস ৪:০-এ এগিয়ে। ১১ মিনিট ০৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে কেনরিচ উইলিয়ামস থ্রি করে থান্ডারের হিসাব খোলেন। এরপর প্রথম কোয়ার্টারে ১১ মিনিট ০৬ সেকেন্ড থেকে ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড বাকি পর্যন্ত থান্ডারের বাইরের শট গরম। কেনরিচ উইলিয়ামস, ম্যাককেইন ও স্ট্রেটস মিলে ৭টি থ্রি করেন, স্কোর ৪:৩ থেকে ১৬:২১-এ এনে উল্টে দেন। প্রথম কোয়ার্টার শেষে থান্ডার ৩৪:২৮-এ এগিয়ে।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফিরে ১১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে মিচেল খালি জায়গায় কাট করে লেআপ করেন, থান্ডার ব্যবধান বাড়ায়। ১০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ০৪ সেকেন্ড বাকি পর্যন্ত মালা পরপর দৌড়ে ফ্লোটার, ঘুরে হুক, অ্যালি-উপ ডাঙ্ক, টিপ-ইন ও ঘুরে জাম্পার করেন। টানা ৫টি শটই লাগে। এতে থান্ডার স্কোর ৩১:৪০ থেকে ৪৮:৬৪-এ নিয়ে যায়। অর্ধবিরতিতে পেলিকানস ৫২:৬৭-এ পিছিয়ে।
পাল্টা অর্ধে ১০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড থেকে ৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড বাকি পর্যন্ত থান্ডার টানা ৫টি পজেশনে স্ট্রেটস, টিলি, বার্নহাইজার ও ডিকসের হাতে প্রতিবারই স্কোর করে, স্কোর ৫৪:৭১ থেকে ৫৯:৮১-এ ছড়িয়ে দেয়। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে ৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড বাকি থাকতে বার্নহাইজার ঘুরে জাম্পার করেন, পেলিকানস ৬৩:৮৭-এ ২৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। এরপর পেলিকানস পাল্টা আক্রমণ তোলে। মারে ৬ মিনিট ২১ সেকেন্ড বাকি থাকতে থ্রি করে তাড়া শুরু করেন। দল প্রায় ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ২৭:৬-এর ধাক্কা দেয়। তৃতীয় কোয়ার্টারে ৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে স্কোর ৯০:৯৩-এ আসে, মাত্র ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে শেষ কোয়ার্টারে ঢোকে।
শেষ কোয়ার্টার শুরুতে ১১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড বাকি থাকতে ওয়াটফোর্ড খালি জায়গায় কাট করে লেআপ করেন, পেলিকানস ৯২:৯৩-এ ঘেঁষে আসে। এরপর দুই দলের স্কোর বারবার পাল্টায়। ৭ মিনিট বাকি থাকতে বার্নহাইজার ভেঙে ফ্লোটার করেন, থান্ডার ও পেলিকানস ১০২:১০২-এ সমতায়। ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে বাফকিন দুই ফ্রি থ্রোই করেন, পেলিকানস ১০৪:১০২-এ আবার এগিয়ে। ম্যাচে ৬ মিনিট ০৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে প্রিচার্ড দৌড়ে ডাঙ্ক করেন, থান্ডার ১০৭:১০৪-এ এগিয়ে। এরপর ৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড বাকি পর্যন্ত পেলিকানস ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ম্যাকগাউয়েন্সের থ্রি, মাতকোভিচ ও ওয়াটফোর্ডের পরপর ডাঙ্ক এবং জুনিয়র পিয়েরের থ্রিতে টানা ১০ পয়েন্ট নেয়। স্কোর ১০৪:১০৭ থেকে উল্টে ১১৪:১০৭ হয়, জয়ের ভিত্তি পড়ে।
শেষ বাঁশিতে পেলিকানস ১১৬:১১০-এ থান্ডারকে হারায়।